পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশ দিন চলছে। অর্থাৎ এখন চলছে নাজাতের সময়। রোযার শেষের দিকে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। তবে দেখা যায় অনেকেই ইফতারে পানি পান করা নিয়ে হেলাফেলা করেন।
প্রকৃতপক্ষে সারদিন রোজা রাখার পর শরীরে যে পানি শূন্যতা তৈরি হয় সেটি পূরন করতে ইফতারের পর থেকে সাহরির আগ পর্যন্ত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। পানি বা পানীয় জাতীয় খাবার না খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই ইফতারে পানি, চিনি ছাড়া ফলের জুস, লেবুসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের শরবত খেতে পারেন।
পানি পান করতে হবে শরীরের প্রয়োজন বুঝে। পর্যাপ্ত পানি পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সচল রাখে এবং করোনাভাইরাস ঠেকাতেও সহায়তা করে। পানি পান করলে ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাবের বদলে শরীরে ফিরে আসে সতেজতা। ইফতারে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করলে শরীরে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায়।
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় ইফতারে অতিরিক্ত পিপাসা পায় বলে অনেকে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করেন, যা ঠিক নয়। সারাদিন পর হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করলে শ্বাসনালীতে সমস্যা, রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যাওয়া, হজম সমস্যা ও দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।
ইফতারে প্রথমেই তৃষ্ণা বা ক্লান্তি মেটাতে পুষ্টিকর শরবত বেশ কার্যকর। খেতে পারেন খেজুর-পেস্তার শরবত, মাল্টার জুস, শসা ও লেবুর শরবত, কলা-দুধের স্মুদি, কাঁচা আমের শরবত, পাকা আমের লাচ্ছি, তরমুজের শরবত, বেলের শরবত এবং ইসবগুল-তোকমার শরবত।
ইফতারের খাবার এমন ভাবে খেতে হবে, যেখানে খাবারের পুষ্টিমান এবং পানি ও পানীয়ের সুষম বণ্টন থাকে। ডাবের পানি ইফতারের রাখতে পারেন। কারণ ডাবের পানিতে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেড, ভিটামিন ও মিনারেল আছে।
১০০ গ্রাম ডাবের পানিতে ৯৪ গ্রামই পানি থাকে। ইফতারের সময়টাতে ডাবের পানি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র অঙ্গপ্রতঙ্গ কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই ইফতার করার সময় অবশ্যই মনে রাখবেন, সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর যাতে কোনোভাবেই পানিশূন্যতা তৈরি না হয়।
আরটিভি/এমআই





